demo post
ভগবান দেবার সময় আমাদের দু-হাত দিয়ে ঢেলে দিয়েছে। পাগলা কত খাবি, খা ! দু-একটা কেসে কিপটেমি করেছে বটে, তবে সেসব নেগ্লিজিবেল ।কিন্তু এমন জিনিস দিয়েছে যার জন্য আমরা “লক্ষ জনম ঘুরে ঘুরে” এমন “মানব জনম “ পেতে এক পায়ে খাড়া। মালটা যে কি সেইটা খোলসা করার আগে আরটু হেজিয়ে নি।
আসলে কেসটা টোটাল মেডিকেল। সক্কলের বুকের মধ্যে একটা বিষের থলি আছে। ইয়াব্বড় দামরা সাইজের । ডবল এক্সেল- ফেক্সেল হবে। খালি চোখে দেখা যায়না বটে, তবে রোজ রোজ বাসে ট্রামে মেট্রোয় অফিসে ঘরে বাইরে সবখানে গলার কাছটায় ব্যোমভোলার মত ঐ ডিপ নেভি ব্লু কালারের বিষের থলিটায় একটু একটু করে ভরে । গরমে-ঘেন্নায়-ফেলিওরে-কারণে–অকারনে। সকাল বিকেল রোজ রোজ তাতে শুধু জমা হয় তিতকুটে রাগ-ঘেন্না-অভিমান। দলা দলা পিত্তি। সিকনি। সেসব টগবগ করে ফোটে । বাষ্প হয়ে ওড়ে । আবার জমে । একটা সাইক্লিকাল প্রসেসে। যার সব টা উবে যায়না। প্রতিটা সাইকেলে কিছুটা এক্সেস থেকে যায়। এই
বিরক্তির ব্রণ টা আমরা নিজের মনের ভুলে খুঁটেই চলি। যদি টিপেটাপে মাল কিছুটা বার করা যায় ।
কিন্তু দাদা, জমতে থাকা এই বিষফোঁড়াগুলোকে কিন্তু ঠিকঠাক গেলে দিতে না পারলে বুমেরাং হয়ে তোমাকেই তো ঠাসিয়ে হিট করবে। তখন?? তখন কে তোমায় বাঁচাবে চাঁদু?
ভগবান ঠিক এক্কেবারে এই জায়গাটা ধরেছে। যতই হোক সিনিয়ার সিটিজেন তো। তাই বোঝে।
আর না হেজিয়ে বলি “রনে-বনে-জঙ্গলে “ বিপদে আপদে ঈশ্বরপ্রদত্ত সেই মহার্ঘ আশীর্বাদটির নাম “খিস্তি’।
বুকের ভিতরে ওই ভলকে ভলকে ওঠা ভলকানো টাকে পৃথিবীর আলো না দেখালে সেগুলো যে কি লেবেলে সাইক্লোন হয়ে আমাদের ওলট-পালট করত কে জানে! উফফ । ভাবলেই গা শির-শির করে ।
আসলে অনেক ভাবেই তো ঘেন্না বর্ষানো যায়। চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির মত রাস্তা ঘাটে পানের পিক ফেলে সমাজের ন্যাংটো মূল্যবোধের এগেন্সটে লাল প্রতিবাদ করেন কেউ কেউ। আবার কেউ তার ঘিনঘিনে হলুদ শ্বদাঁত বার করে নিজের ভাইয়ের বুকে ছুরি ঢোকাতেও পিছ পা হন না। কেউ বা ট্রান্সপারেন্ট ব্লটিং পেপার হয়ে সব জ্বালা অপমান নিট-অ্যান্ড-ক্লিন করে শুষে নিয়ে নিজেকেই ঝুলিয়ে দেন দড়িতে। সব্বার ইন্তেনশান কিন্তু সেম। মাল জমিয়ে রাখলেই বাস্ট করবে । অতএব ওয়াক থুঃ। যেনতেনপ্রকারেণ বমি করো। ঘেন্নার প্রবাহটা গল গল করে বমি করে উগড়ে দাও ।
সত্যি ওরা অকারণে হেব্বি চঞ্চল । এর সাথে বেশ মাথামোটাও বটে। দরকার কি
বাবা এত চুলোচুলি কাটাকাটি মারামারি খুনোখুনি? এর থেকে দুটো দু-অক্ষর- চার- অক্ষর-ছ- অক্ষর ঢেলে দে না। ছ্যারছেরিয়ে রাগ - ঘেন্নার ঘরঘরানি গুলো যেমন ওগরানো যাবে তেমনি বুকের ভেতর টাও কুল হবে। আর ক্রসে ঝুলিয়ে মানুষগুলোকে পেরেক ফুটিয়ে মেরে রক্তের ঝোল দিয়ে পাউরুটি খেয়ে কাপালিক সাজতে হবে না। শাপ ও মারা যাবে, লাথি না মেরে । অতএব, এই গরমে টোটাল বৃষ্টির থুরি খিস্তির শান্তি।
তাই তো বলছি , কুফলে –বিফলে- নাইটফলে ভগবানের দেয়া এই সর্বরোগহর এই আশীর্বাদটাকে একটু দেখে শুনে কাজে লাগাতে শেখো । তালেই কেল্লা ফতে হবে কিনা বলতে পারবনা। তবে রক্তের দাগ কিন্তু অনেকটা কমবে। কারণ সব দাগ তো ভালো না।
পুনশ্চঃ দয়াপূর্বক কেহ খিস্তি ভক্ষণের পরে ডিকশনারি দেখিয়া অর্থ খুঁজিবার চেষ্টা করিবেন না। অন্যথা অনর্থ হইতে পারে। খিস্তিকে নিতান্তই "দুর্বাক্যে"র পর্যায়ে রাখিয়া ক্রোধ প্রশমনের চেষ্টা করুন । অর্থ খুঁজিয়া তাহার ফ্যামিলি ট্রি পর্যালোচনা করিয়া নহে।

No comments